ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। দিল্লিতে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় গীত পরিবেশনের সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ কতটা সংবেদনশীল হওয়া উচিত?
‘বন্দেমাতরম’ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের স্লোগান নয়; ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতীক। তবে গানটির কিছু অংশ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কও ছিল। ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি জাতীয় সমাবেশে পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। এর পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
স্বাধীনতার আট দশক পরেও সেই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের ধরন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা মূলত জাতীয় প্রতীক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ববোধের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
ভারতের মতো বহুত্ববাদী দেশে জাতীয় ঐক্য রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতিও সম্মান দেখানো জরুরি। কিন্তু কোনো সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীককে খাটো করা হলে তা অবশ্যই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মতপার্থক্যের মধ্যেও ইতিহাসকে অস্বীকার না করে, জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান রেখে এবং রাজনৈতিক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৮০ বছর পর ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এমন একটি পরিণত ও দায়িত্বশীল অবস্থানই প্রত্যাশিত।
জাতীয় চেতনা কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, তার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং জাতীয় প্রতীক—এসবই গোটা দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ। তাই রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও জাতীয় প্রতীককে সম্মান করার সংস্কৃতি শক্তিশালী হওয়াই গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য অধিকতর ইতিবাচক বার্তা।




