ঢাকা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো ইস্যুতে চীন অন্য কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের অনুরোধে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে চীন।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত চীনের এই সুদৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।
### তিস্তা প্রকল্পে কাজ করবে চীন
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিভিন্ন দেশের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন: “বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে। অন্য কোনো ইস্যু বা তৃতীয় কোনো পক্ষের ভাবনা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন বরাবরের মতোই অব্যাহত থাকবে এবং বেইজিং ঢাকার উন্নয়ন চাহিদাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
### প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অত্যন্ত সফল
সদ্য সমাপ্ত দ্বিপাক্ষিক সফরের কথা উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে আরও এক ধাপ উন্নত হয়েছে। নতুন সরকারের সাথে বেইজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
### প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা
সংবাদ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশ যাতে প্রযুক্তির দিক থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেজন্য চীন তার আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
**বিশ্লেষণ:**
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনা রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পশ্চিমা বা আঞ্চলিক শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এটি বেইজিংয়ের একটি শক্তিশালী বার্তা, অন্যদিকে ভারতের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে চীনের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ঢাকার সাথে বেইজিংয়ের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।




