আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি সম্মান এবং গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ৫ আগস্টকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাণীতে ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বাণীতে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক সংকট, বৈষম্য, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমে দেশব্যাপী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সৃষ্টি করে।
এতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, তরুণ, অভিভাবকসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সম্মিলিত ভূমিকা গণ-অভ্যুত্থানকে সফলতার দিকে নিয়ে যায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরালো করে।
আরও পড়ুনঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বাণীতে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, স্বৈরাচার, বৈষম্য ও অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর সংস্কার এবং সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বাণীর শেষাংশে দেশের শান্তি, অগ্রগতি, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।




