প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণে মানবিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে থাকা গুরুতর অসুস্থ ও মানবিক সংকটে থাকা দুই প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে বিমানের টিকিট দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সহায়তাপ্রাপ্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে বিমানের টিকিট তুলে দেন হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্যাহ।
সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নরুল ইসলাম (৫০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসজনিত যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া একই জেলার মো. আজিজ প্রামাণিক (৫৫) সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ায় তারও দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। এ দুই প্রবাসী বাংলাদেশির শারীরিক জটিলতা, আর্থসামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রতিকূল মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তার পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী কর্মীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রমনিষ্ঠা, সততা ও সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
হাইকমিশনার এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সংরক্ষণ, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ ও যেকোনো মানবিক সংকটে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে হাইকমিশনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পুনর্ব্যক্ত করেন।




