যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের দরপতনের পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়।
বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৩৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এর আগে টানা দরপতনে ব্রেন্টের মূল্য প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি সাম্প্রতিক সেই বড় পতনের পর আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৬১ সেন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০.৯৫ মার্কিন ডলারে ওঠে। আগের লেনদেন দিনে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে যে কোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক তেলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় অথবা জ্বালানি সরবরাহে নতুন কোনো বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।




