একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার : ডা. শফিকুর রহমান

একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার : ডা. শফিকুর রহমান

বিগত সরকারের মতো বর্তমান সরকারও ব্যাংক লুট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান, যিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মহানগর শাখার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের চেতনাকে অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে একদলীয় শাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ব্যাংক লুট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলবাজি ও জনগণের সম্পদ লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অতীতে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, এখন শুধু তাদের হাতবদল হয়েছে; সমস্যার সমাধান হয়নি।”

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জোর করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করা হলে জনগণ হিমালয়ের মতো দৃঢ় হয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।”

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে ১৭ বছরে বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে, সে প্রত্যাশা দেশের জনগণের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে বিজয়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাস্তবায়নের দাবিও জানান।

নারায়ণগঞ্জকে চাঁদাবাজ ও অসৎ নেতৃত্বমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাশীল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন-এর অনির্বাচিত প্রশাসক অপসারণ করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল জব্বার-কে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাইফুল আলম খান মিলন, কামাল হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, মাওলানা মাঈনউদ্দিন আহমেদ এবং মমিনুল হক সরকারসহ স্থানীয় নেতারা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।