শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে—

  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা
    • চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট: ৩১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা
  • মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ : ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা
    • চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট: ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা
  • কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ : ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা
    • চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট: ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা

উন্নয়ন ব্যয়ে বড় উল্লম্ফন

এবারের বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ব্যয় ১৫৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। গত অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ছিল ২০ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা বাড়িয়ে ৫২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শিক্ষা অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নকেন্দ্রিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় এখনও পিছিয়ে

বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা ব্যয়ে বাংলাদেশ এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

দেশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ (জিডিপির শতাংশ)
ভুটান ৭%
নেপাল ৫%
মালয়েশিয়া ৪.৫%
ভারত ৩.৫%
পাকিস্তান ২.৭%
বাংলাদেশ ১.৭৯%

নতুন উদ্যোগসমূহ

দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের প্রস্তাব করা হয়েছে—

  • ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা।
  • মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ।
  • শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তি।
  • ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা।
  • ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি।
  • বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ।
  • শিক্ষার্থীদের এআই, রোবোটিকস, কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা মনে করেন, কেবল বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; এর কার্যকর ব্যবহার এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষা খাতে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে—

  • উন্নয়ন তহবিল সময়মতো ছাড় করতে হবে,
  • ব্যয়কে সরাসরি শিক্ষার ফলাফল (Learning Outcome)-এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে,
  • নজরদারি ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে হবে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বিশ্লেষণ:
এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ও উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা ব্যয় এখনও কম। ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের দক্ষ ব্যবহার, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।