সাংবাদিককে বেঁধে রাখার হুমকি ছাত্রদল নেতার, জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড়

সাংবাদিককে বেঁধে রাখার হুমকি ছাত্রদল নেতার, জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড়
মাদারীপুরের ডাসারে  সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং জেলার সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রবাসীর বিরুদ্ধে এক নারীর প্রতারণা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগসংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। ওই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করতে গেলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কিছু নেতাকর্মী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন।
তবে পোস্টটিতে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক তুহিন মৃধাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি ও তার সহকর্মী ডাসার প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার বাসতলা এলাকায় পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাসার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন সরদার সাংবাদিকদের থামতে বলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, নিউজ করার আগে কেন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি? একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন এবং তাদের বেঁধে রাখা  অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।সাংবাদিকদের অভিযোগ, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এমন আচরণ করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকদের প্রতি এমন আচরণে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়া ও তাদের কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিন সরদারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
সাংবাদিক তুহিন মৃধা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব ও মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি মো. ফায়েজুল কবির বলেন, “হুমকি-ধামকি, হামলা কিংবা মামলার ভয় দেখিয়ে কখনো সাংবাদিকদের স্বাধীন কণ্ঠ রোধ করা যায় না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা গণমাধ্যমকর্মীদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান জাকির বলেন, “সাংবাদিকরা আমাদের প্রতিপক্ষ নন, তারা আমাদের ভাই। তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। একটি ভিডিও আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি আমি দেখছি। ভিডিওটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।”
ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।