৭২ ঘণ্টার আগেই ভাঙল নেপাল–তিব্বত সীমান্তের হ্রদের বাঁধ, নতুন বন্যার শঙ্কা

৭২ ঘণ্টার আগেই ভাঙল নেপাল–তিব্বত সীমান্তের হ্রদের বাঁধ, নতুন বন্যার শঙ্কা
Lake-dam-on-the-Nepal-Tibet-border

নেপাল–তিব্বত সীমান্তে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পাড় ভেঙে ফের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে বিপদের আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতিতে নেপালের রাসুয়া জেলায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সঙ্গে চীনও সীমান্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে।

নেপালের রাসুয়া জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং সীমান্তবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় শুক্রবার হ্রদটির পাড় ভেঙে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছিল, সীমান্তসংলগ্ন হ্রদটির দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ তিন সামরিক কর্মকর্তার ভারতে আশ্রয়ের দাবি, উঠছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ভূতাত্ত্বিকভাবে নদী বা জলধারার স্বাভাবিক প্রবাহ কোনো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে গিয়ে যে হ্রদ তৈরি হয়, তাকে ‘বেরিয়ার লেক’ বলা হয়। তুষারধস, ভূমিধস বা পাথর-ধ্বংসাবশেষ জমে নদীর গতিপথ আটকে গেলে এ ধরনের হ্রদ তৈরি হতে পারে।

তুষারধস থেকেই হ্রদের সৃষ্টি

বুধবার তিব্বত–নেপাল সীমান্তের গিরং এলাকায় বড় ধরনের তুষারধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও নুড়ি নদীর ওপর জমে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে সেখানে অস্থায়ী একটি হ্রদ তৈরি হয়।

পরদিন চীনা উদ্ধারকারী দল আকাশপথে হ্রদটির ছবি ধারণ করে। ছবিতে হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে আশপাশের গাছপালাও পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তায় মোদী সরকারকে চাপ বাড়ানোর আহ্বান তথাগত রায়ের

হ্রদে জমে থাকা পানির চাপ ক্রমেই পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের ওপর বাড়ছিল। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় উদ্ধারকারীদের

বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নেপাল প্রশাসন নিচু এলাকা থেকে নিরাপত্তাকর্মী ও উদ্ধারকারীদের সরে গিয়ে উঁচু স্থানে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

রাসুয়া জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৯০ মিনিট উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিরাপদে উঁচু এলাকায় চলে যেতে বলা হয়।

চীনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদের পানি উপচে পড়ার পর সীমান্ত এলাকায় থাকা সব উদ্ধারকারী দলকে প্রায় এক কিলোমিটার পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফলে চীনের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে পড়ায় নেপাল–তিব্বত সীমান্তে নতুন করে বন্যা ও আকস্মিক জলপ্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।