লক্ষ্মীপুরে গোখামারের বিষাক্ত দুর্গন্ধে বাড়ী ছাড়া শিক্ষক দম্পতি

লক্ষ্মীপুরে গোখামারের বিষাক্ত দুর্গন্ধে বাড়ী ছাড়া শিক্ষক দম্পতি
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাহেব বাড়ী এলাকায় একটি গরুর খামারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জর্জ ফিনির ছেলে জেরেল ফিনি ২০১৬ সালে নিজ বসতবাড়িতে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খামারের পরিধি বাড়লেও গরুর গোবর ও মূত্র অপসারণের যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে খামারের বর্জ্য উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে আশপাশের পরিবেশকে দূষিত করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খামার থেকে নির্গত তীব্র ও ঝাঁঝালো দুর্গন্ধে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা আইনজীবী নিক্সন ফিনি লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর তদন্ত পরিচালনা করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম জুয়েল ও চাঁদমনি মোহন। তাদের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে খামারের মল-মূত্র খোলা অবস্থায় চারদিকে ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামারের বর্জ্য উন্মুক্ত পুকুরে পড়ায় পানির ব্যবহারযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির নানা চিত্র চোখে পড়ে।
এদিকে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক পল ফিনি দাবি করেন, খামার থেকে সৃষ্ট বিকট গন্ধে তিনি ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজেদের বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যত্র বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
গরুর খামারটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানান্তর এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্কুল শিক্ষক পল ফিনি ও আইনজীবী নিক্সন ফিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।