বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। এর বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা দেশের জনজীবন, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু, আধুনিক ও টেকসই ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সূচনা হয় জাতিসংঘের জাতিসংঘ মানবিক পরিবেশ সম্মেলন থেকে, যা ১৯৭২ সালের ৫–১৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে এই দিবস পরিবেশ সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জনসচেতনতা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা জরুরি।




