মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করলে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে -ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করলে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে -ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি, যেই হোক না কেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি, যেই হোক না কেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং “স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান” হিসেবে তার নেতৃত্বে গর্ববোধ করেন।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তবে জনগণই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই জাতি স্বাধীন ভূখণ্ড, মানচিত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক আস্ফালন নতুন করে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি টকশোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তানপন্থী বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিচয় মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং এ সময় গুম, হত্যা ও দমন-পীড়নের বহু ঘটনা ঘটেছে। এসব আন্দোলন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং সেখান থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ছাত্ররাজনীতির কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এ.টি.এম. মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।